সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাতে বিছানায় যাওয়ার পর যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করতে হয়, তবে তার চেয়ে বিরক্তিকর আর কিছুই হতে পারে না। বর্তমানে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং কর্মব্যস্ত জীবনের চাপে অনেকেই অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে পরদিন শরীর ম্যাজম্যাজ করে এবং কোনো কাজেই মনোযোগ দেওয়া যায় না।
ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে ভালো ঘুমের জন্য আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে ছোট কিছু পরিবর্তন আনাই যথেষ্ট। চলুন জেনে নিই এমন ৩টি সাধারণ অভ্যাসের কথা:
১. ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন টাইম বন্ধ করা
আমাদের ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে আসা ‘ব্লু লাইট’। এই আলো আমাদের ব্রেইনকে সজাগ রাখে এবং ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন তৈরিতে বাধা দেয়। তাই রাতে ভালো ঘুম পেতে হলে বিছানায় যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের গ্যাজেট দূরে রাখার অভ্যাস করুন। এই সময়ে বই পড়া বা হালকা মিউজিক শোনার অভ্যাস করতে পারেন।
২. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর রুটিন
আমাদের শরীরের একটি নিজস্ব ঘড়ি আছে, যাকে ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বলা হয়। আপনি যদি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠেন, তবে শরীর সেই রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে যায়। ছুটির দিনগুলোতেও এই রুটিন যতটা সম্ভব মেনে চলার চেষ্টা করলে রাতে বিছানায় যাওয়ার সাথে সাথেই সহজে ঘুম চলে আসবে।
৩. রাতের খাবার হালকা রাখা এবং ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা
রাতে গুরুপাক বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার খেলে তা হজম হতে সময় লাগে, যা ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়। রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খেয়ে নেওয়া উচিত। এছাড়া বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা, কফি বা যেকোনো ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এটি মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দেয়।
সুস্থ শরীর এবং সতেজ মন পেতে হলে প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। আজ রাত থেকেই এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন।