এফ-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হলো ‘পার্সেল রিটার্ন’ বা কাস্টমার কর্তৃক প্রোডাক্ট রিসিভ না করা। অনেক কষ্ট করে সেলস আনার পর, পার্সেল যখন কুরিয়ার থেকে ঘুরে আবার নিজের কাছে ফেরত আসে, তখন শুধু ডেলিভারি চার্জটাই লস হয় না, সাথে অনেক সময় প্যাকেজিং এবং প্রোডাক্টও ড্যামেজ হয়।
একটু সতর্ক হলে এবং ব্যবসার ম্যানেজমেন্টে ছোট কিছু কৌশল প্রয়োগ করলে এই ফেক অর্ডার বা রিটার্নের হার অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। চলুন জেনে নিই এমন ৩টি কার্যকরী উপায়ের কথা:
১. ডেলিভারি চার্জ বা আংশিক পেমেন্ট অগ্রিম নেওয়া
অনলাইনে ফেক অর্ডার কমানোর সবচেয়ে পরীক্ষিত উপায় হলো অর্ডারের সময় কাস্টমারের কাছ থেকে অন্তত ডেলিভারি চার্জটুকু অগ্রিম (Advance) হিসেবে নিয়ে নেওয়া। যে ক্রেতা আসলেই প্রোডাক্টটি নিতে আগ্রহী, তিনি সাধারণত সামান্য এই ডেলিভারি চার্জ আগে পে করতে আপত্তি করেন না। এই ছোট একটি ফিল্টার ব্যবহার করলেই আপনার সাইট বা পেজের অর্ধেকের বেশি নন-সিরিয়াস অর্ডার শুরুতেই কমে যাবে।
২. কাস্টমারের আগের ডাটা বা বিহেভিয়ার চেক করা
অর্ডার কনফার্ম করার আগে কাস্টমারের দেওয়া ফোন নম্বর বা প্রোফাইল একটু যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বর্তমানে অনেক ই-কমার্স মার্চেন্টরাই নিজেদের মধ্যে একটি শেয়ার্ড ডাটাবেস বা ‘ফ্রড কাস্টমার চেকার’ সিস্টেম ব্যবহার করেন, যেখানে ফোন নম্বর দিলে বোঝা যায় ওই কাস্টমারের আগের পার্সেল রিসিভ করার রেকর্ড কেমন। এ ধরনের সমস্যাযুক্ত বা সন্দেহজনক অর্ডারগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করতে পারলে রিটার্নের লস থেকে অনায়াসেই বাঁচা যায়।
৩. অর্ডার কনফার্মেশনে ওভার-কমিউনিকেশন
অনেকেই ওয়েবসাইটে বা মেসেজে অর্ডার পাওয়ার পর সরাসরি পার্সেল কুরিয়ারে বুক করে দেন। এটি না করে, পার্সেল প্যাক করার আগে কাস্টমারকে একটি ফোন করে ঠিকানাটি ভালোভাবে ভেরিফাই করে নিন। কাস্টমারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন পার্সেলটি কবে পৌঁছাতে পারে এবং কুরিয়ার থেকে ফোন দিলে যেন তিনি তা রিসিভ করেন। এই সরাসরি যোগাযোগের ফলে কাস্টমারের মনেও এক ধরনের দায়িত্ববোধ কাজ করে এবং পার্সেল রিসিভ করার রেট বেড়ে যায়।
অনলাইন ব্যবসায় রিটার্ন একদম শূন্য করা হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু স্মার্ট কিছু কৌশল অবলম্বন করলে এই লসের পরিমাণ কমিয়ে এনে ব্যবসাকে দ্রুত লাভজনক করে তোলা যায়।