সারাক্ষণ নেতিবাচক চিন্তা করে মানসিক শান্তি নষ্ট করছেন? ‘ওভারথিংকিং’ থেকে মুক্তি পেতে চর্চা করুন এই ৩টি সহজ কৌশল

অতীত নিয়ে আফসোস আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অহেতুক ভয়—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে আমরা অনেকেই বর্তমানের সুন্দর মুহূর্তগুলো নষ্ট করে ফেলি। এই অতিরিক্ত চিন্তা করা বা ‘ওভারথিংকিং’ আমাদের মানসিক শান্তির সবচেয়ে বড় শত্রু। এর ফলে তৈরি হয় স্ট্রেস, উদ্বেগ এবং অনিদ্রার মতো মারাত্মক সমস্যা।

অথচ প্রতিদিনের রুটিনে ছোট কিছু কৌশল চর্চা করলে এই নেতিবাচক চিন্তার চক্র থেকে খুব সহজেই বেরিয়ে আসা সম্ভব। চলুন জেনে নিই এমন ৩টি কার্যকরী উপায়ের কথা:

১. মনের কথাগুলো কাগজে লিখে ফেলা (Journaling)
অতিরিক্ত চিন্তার সময় আমাদের ব্রেইনে একসাথে অনেকগুলো নেতিবাচক ভাবনা ঘুরপাক খায়। এই জট খোলার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো একটি ডায়রি বা কাগজে মনের সব কথা লিখে ফেলা। আপনার ঠিক কী নিয়ে ভয় বা দুশ্চিন্তা হচ্ছে, তা যখন আপনি কাগজে লিখে ফেলবেন, তখন মস্তিষ্কের ওপর থেকে অনেক বড় একটি চাপ কমে যায় এবং আপনি সমস্যাটির একটি যৌক্তিক সমাধান ভাবতে পারেন।

২. ‘৫-৪-৩-২-১’ গ্রাউন্ডিং টেকনিক ব্যবহার করা
যখনই মনে হবে নেতিবাচক চিন্তা আপনাকে গ্রাস করছে, তখনই এই দারুণ মনস্তাত্ত্বিক কৌশলটি ব্যবহার করুন। নিজের চারপাশের পরিবেশের দিকে তাকান—এমন ৫টি জিনিসের নাম ভাবুন যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন, ৪টি জিনিস যা আপনি ছুঁতে পারছেন, ৩টি শব্দ যা আপনি শুনতে পাচ্ছেন, ২টি জিনিসের গন্ধ এবং ১টি জিনিসের স্বাদ। এটি আপনার মনোযোগকে ভবিষ্যৎ বা অতীতের কাল্পনিক ভয় থেকে সরিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বর্তমান বা বাস্তবের মুহূর্তে নিয়ে আসবে।

৩. নিজেকে পছন্দের কাজে ব্যস্ত রাখা
কথায় আছে, ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’। আপনি যখন কোনো কাজ ছাড়া চুপচাপ বসে থাকেন, তখনই মাথায় সবচেয়ে বেশি আজেবাজে চিন্তা আসে। তাই নিজেকে সবসময় কোনো না কোনো গঠনমূলক বা পছন্দের কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন। সেটা হতে পারে বই পড়া, সিনেমা দেখা, ঘর গোছানো বা পরিবারের সাথে গল্প করা। মন যখন কাজে ব্যস্ত থাকে, তখন ওভারথিংকিং করার কোনো সুযোগই থাকে না।

অতিরিক্ত চিন্তা করার স্বভাব একদিনে দূর হওয়া সম্ভব নয়। তবে একটু সচেতনতা এবং প্রতিদিন এই সহজ কৌশলগুলোর চর্চা আপনাকে অহেতুক দুশ্চিন্তামুক্ত এক প্রশান্তিময় জীবন উপহার দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top