মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা আজকাল ঘরে ঘরে দেখা যায়। কাজের চাপ, রোদে ঘোরাঘুরি, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা বা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে হঠাৎ করেই শুরু হতে পারে এই বিরক্তিকর ব্যথা। অনেকেই মাথা ব্যথা শুরু হলেই সাথে সাথে পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে নেন। কিন্তু নিয়মিত পেইনকিলার খাওয়া আমাদের কিডনি ও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
অথচ কোনো ধরনের ওষুধ ছাড়াই ঘরোয়া কিছু সাধারণ উপায়ে এই মাথা ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নিই এমন ৩টি কার্যকরী উপায়ের কথা:
১. পর্যাপ্ত পানি পান করা
মাথা ব্যথার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো ডিহাইড্রেশন বা শরীরে পানির শূন্যতা। কাজের চাপে আমরা অনেক সময় পানি খেতে ভুলে যাই, যার ফলে ব্রেইনে অক্সিজেনের সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে গিয়ে মাথা ব্যথা শুরু হয়। ব্যথা শুরু হলে প্রথমেই ১-২ গ্লাস স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করুন। অনেক ক্ষেত্রে শুধু পানি পানের কারণেই কয়েক মিনিটের মধ্যে মাথা ব্যথা ম্যাজিকের মতো গায়েব হয়ে যায়।
২. আদা চা পান করা
আদাতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরের যেকোনো ধরনের প্রদাহ এবং ব্যথা কমাতে দারুণ কাজ করে। মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেনের তীব্র ব্যথা শুরু হলে এক কাপ গরম আদা চা পান করতে পারেন। এটি মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলোকে শান্ত করে, বমি বমি ভাব দূর করে এবং খুব দ্রুত ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।
৩. কপালের দুই পাশে হালকা ম্যাসাজ (আকুপাংচার)
মাথা ব্যথা কমানোর জন্য আঙুলের সাহায্যে হালকা ম্যাসাজ বা আকুপাংচার পদ্ধতি বেশ কার্যকরী। দুই হাতের তর্জনী ও মধ্যমা দিয়ে কপালের দুই পাশে (রগে) এবং ঘাড়ে আলতো করে বৃত্তাকার মোশনে ম্যাসাজ করুন। চাইলে ম্যাসাজের সময় কয়েক ফোঁটা পেপারমিন্ট বা ল্যাভেন্ডার অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এর স্নিগ্ধ সুবাস স্নায়ুকে শান্ত করে এবং নিমিষেই ব্যথার অনুভূতি কমিয়ে দেয়।
যেসব মাথা ব্যথা সাধারণ কারণে হয়, সেগুলো কমানোর জন্য এই প্রাকৃতিক উপায়গুলো খুবই কার্যকরী। তবে যদি আপনার প্রায়ই তীব্র মাত্রায় মাথা ব্যথা হয় এবং তা কোনোভাবেই না কমে, তবে অবহেলা না করে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।