সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও শরীর ম্যাজম্যাজ করে? কাজে মনোযোগ বসাতে কষ্ট হয় এবং সারাদিন একটা ক্লান্তিকর অনুভূতি কাজ করে? আজকাল এই সমস্যাটি প্রায় সবার ক্ষেত্রেই দেখা যায়। আমরা অনেকেই ভাবি কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে হয়তো এমন হচ্ছে, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে আমাদের দৈনন্দিন কিছু ছোট ছোট ভুল অভ্যাসই এই অলসতার প্রধান কারণ।
দামি কোনো ভিটামিন বা এনার্জি ড্রিংকস ছাড়াই, প্রতিদিনের রুটিনে সামান্য পরিবর্তন আনলে সারাদিন সতেজ থাকা সম্ভব। চলুন জেনে নিই এমন ৩টি কার্যকরী অভ্যাসের কথা:
১. সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি
রাতের দীর্ঘ ঘুমের পর আমাদের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। সকালে উঠেই চা বা কফি খাওয়ার বদলে খালি পেটে এক বা দুই গ্লাস স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করার অভ্যাস করুন। এটি শরীরের মেটাবলিজম রেট বাড়িয়ে দেয়, ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে সচল করে এবং ব্রেইনে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে মুহূর্তেই ক্লান্তি দূর করে।
২. প্রোটিনযুক্ত সকালের নাস্তা (Healthy Breakfast)
আমরা অনেকেই তাড়াহুড়োয় সকালের নাস্তা বাদ দিই অথবা শুধু কার্বোহাইড্রেট (যেমন: শুধু রুটি বা বিস্কুট) খেয়ে থাকি। সারাদিন এনার্জি ধরে রাখার জন্য সকালের নাস্তায় পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকা অত্যন্ত জরুরি। ডিম, দুধ, বাদাম বা ওটস জাতীয় খাবার সকালের নাস্তায় রাখলে তা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং শরীরে ধীরে ধীরে এনার্জি সরবরাহ করে।
৩. একটানা বসে না থেকে ছোট ব্রেক নেওয়া
অফিসে বা ঘরে একটানা বসে কাজ করলে শরীরের রক্ত চলাচল ধীর হয়ে যায়, যার ফলে দ্রুত ক্লান্তি এবং ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে। প্রতি এক ঘণ্টা কাজ করার পর অন্তত ৫ মিনিটের জন্য সিট থেকে উঠে দাঁড়ান। একটু হাঁটাহাঁটি করুন, আড়মোড়া ভাঙুন বা চোখেমুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। এই ছোট্ট ব্রেকটি আপনার ব্রেইনকে রিফ্রেশ করে কাজের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক সতেজতার জন্য এই ছোট ছোট নিয়মগুলো জাদুর মতো কাজ করে। তাই সারাদিন চনমনে ও প্রাণবন্ত থাকতে আজ থেকেই এই অভ্যাসগুলো নিজের রুটিনে যুক্ত করে নিন।