বর্তমান সময়ের ব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস যেন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের চাপ, পড়াশোনা, ট্রাফিক জ্যাম বা ব্যক্তিগত নানা কারণে দিন শেষে আমরা অনেকেই মানসিকভাবে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ি। এই অতিরিক্ত স্ট্রেস দীর্ঘমেয়াদে আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে।
অথচ দামি কোনো থেরাপি বা ওষুধ ছাড়াই, প্রতিদিনের রুটিনে ছোট কিছু পরিবর্তন আনলে এই মানসিক চাপ থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নিই এমন ৩টি কার্যকরী উপায়ের কথা:
১. গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (Deep Breathing)
মানসিক চাপ কমানোর সবচেয়ে দ্রুত ও সহজ উপায় হলো শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম। যখনই খুব বেশি স্ট্রেস বা অস্থিরতা অনুভব করবেন, নিরিবিলি কোথাও বসে চোখ বন্ধ করুন। এরপর নাক দিয়ে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন, কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে ছেড়ে দিন। এই প্রক্রিয়াটি টানা ৫-১০ বার করলে ব্রেইনে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ে এবং স্নায়ুগুলো মুহূর্তের মধ্যেই শান্ত হয়ে আসে।
২. ডিজিটাল ডিটক্স বা স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা
আমাদের মানসিক অশান্তির অন্যতম বড় একটি কারণ হলো অতিরিক্ত মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার। সারাদিন নেতিবাচক খবর বা অন্যদের সাজানো জীবন দেখলে অবচেতনভাবেই মনের ওপর চাপ পড়ে। তাই প্রতিদিন অন্তত ১-২ ঘণ্টা ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখার অভ্যাস করুন। এই সময়ে পরিবারকে সময় দিন, বই পড়ুন বা প্রকৃতির কাছাকাছি হাঁটার চেষ্টা করুন।
৩. নিজের প্রিয় শখের কাজে সময় দেওয়া
কর্মব্যস্ততার কারণে আমরা অনেকেই নিজের শখের কাজগুলো ভুলে যাই। মানসিক চাপ কমানোর জন্য প্রতিদিন নিজের পছন্দের কোনো কাজের জন্য অন্তত আধা ঘণ্টা সময় বের করা উচিত। সেটা হতে পারে বাগান করা, ছবি আঁকা, গান শোনা, রান্না করা বা ডায়েরি লেখা। পছন্দের কাজ করলে আমাদের মস্তিষ্কে ‘এন্ডোরফিন’ বা হ্যাপি হরমোন তৈরি হয়, যা নিমেষেই মন ভালো করে দেয়।
মানসিক শান্তি ছাড়া শারীরিক সুস্থতা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে এই সহজ অভ্যাসগুলো আজ থেকেই শুরু করুন।