পরিবার ছেড়ে হাজার মাইল দূরে প্রবাস জীবনে একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্বল হলো তার পাসপোর্ট ও ভিসা। কিন্তু এই পাসপোর্ট নবায়ন (Renew) করতে গিয়ে সঠিক নিয়মের অভাবে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা পদে পদে হয়রানির শিকার হন। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে একদিকে যেমন হাজার হাজার টাকা গচ্চা যায়, তেমনি ছোট ভুলের কারণে ভিসা বাতিলের মতো ভয়ংকর ঘটনাও ঘটে।
আজ আমরা জানবো প্রবাসে পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে করা এমন ৩টি মারাত্মক ভুলের কথা, যা দালালরা কখনোই আপনাকে বলবে না। মিলিয়ে দেখুন তো, আপনার পরিচিত কেউ এই ভুলগুলোর শিকার হচ্ছেন কি না:
১. পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের নিচে নেমে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা
“এখনো তো কয়েক মাস মেয়াদ আছে, পরে রিনিউ করবো”—এই চিন্তা প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় ভুল। আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের কম থাকলে আপনি কোনো দেশে ট্রাভেল করতে পারবেন না, এমনকি আপনার ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসাও রিনিউ হবে না! মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিনিউ করতে দিলে জরিমানা গুনতে হয় এবং সময়ও দ্বিগুণ লাগে। এই ঝামেলা থেকে বাঁচতে এবং [এখানে আপনার এক্সপ্যাট ক্লাস্টারের ফোকাস কিওয়ার্ড দিন, যেমন: অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদনের সহজ ও সঠিক নিয়ম (Slug: /e-passport-online-application-rules)] সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিজে নিজেই আবেদন করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
২. পাসপোর্টের তথ্যের সাথে ভিসা বা ইকামার তথ্যের অমিল (সবচেয়ে ভয়ংকর!)
অনেক সময় দালাল দিয়ে ফর্ম পূরণ করালে তারা নামের বানান, জন্মতারিখ বা পেশার ঘরে ভুল করে বসে। নতুন পাসপোর্ট হাতে আসার পর যদি দেখা যায় আপনার পুরনো ভিসা, আকামা (Iqama) বা এমিরেটস আইডির (Emirates ID) সাথে পাসপোর্টের নামের একটি অক্ষরও মিলছে না, তবে আপনার ভিসা তৎক্ষণাৎ বাতিল হয়ে যেতে পারে! নিজের ফর্ম নিজে পূরণ করার পাশাপাশি [এখানে আগামী ক্লাস্টারের কিওয়ার্ড দিন, যেমন: প্রবাসীদের ভিসা বা আকামা অনলাইনে চেক করার নিয়ম (Slug: /check-visa-iqama-status-online)] ফলো করলে আপনি দালালদের প্রতারণা থেকে ১০০% নিরাপদ থাকবেন।
৩. আসল পাসপোর্ট বা জরুরি ডকুমেন্টস দালালের হাতে তুলে দেওয়া
পাসপোর্ট রিনিউ বা ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের কথা বলে অনেক ভুয়া এজেন্সি আপনার অরিজিনাল পাসপোর্ট আটকে রাখে এবং পরে ব্ল্যাকমেইল করে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি করে। মনে রাখবেন, সরকারি কাজ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সির কাছে অরিজিনাল পাসপোর্ট জমা দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
💡 bdnewslife’s Pro Tips (Expat Safety Hack): দালালদের ফোন করে “ভাই আমার পাসপোর্টের কী অবস্থা” বলে হয়রানি হওয়ার দিন শেষ! আপনি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পর যে ডেলিভারি স্লিপটি (Delivery Slip) পাবেন, সেটির বারকোড নম্বর বা অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন আইডি দিয়ে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে মাত্র ১ মিনিটেই চেক করে নিতে পারবেন আপনার পাসপোর্ট রেডি হয়েছে কি না। স্ট্যাটাসে “Shipped” লেখা দেখলে বুঝবেন পাসপোর্ট আপনার এম্বাসিতে চলে এসেছে!