কাজের সন্ধানে হোক বা স্বপ্নের ছুটি কাটাতে— দুবাই এখন বাংলাদেশিদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। কিন্তু আপনি কি জানেন, দুবাইয়ের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আইন পৃথিবীর অন্যতম কঠোর? একটু না জেনে বা ভুলবশত করা ছোট একটি ভুলের কারণে এয়ারপোর্ট থেকেই আপনাকে শুধু দেশে ফেরত পাঠানোই হবে না, বরং আজীবনের জন্য ইউএই (UAE)-তে নিষিদ্ধ (Ban) করা হতে পারে।
লাগেজ গোছানোর সময় আমরা প্রায়ই এমন কিছু কাজ করি যা আমাদের দেশে খুব স্বাভাবিক, কিন্তু দুবাইয়ের আইনে তা মারাত্মক অপরাধ। আজ আমরা জানবো এমন ৩টি ভুলের কথা। মিলিয়ে দেখুন তো, আপনার লাগেজেও এই জিনিসগুলো ঢুকছে কি না:
১. পরিচিতদের দেওয়া না-খোলা পার্সেল বা প্যাকেট লাগেজে নেওয়া
প্রবাসে যাওয়ার সময় আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুরা প্রায়ই পরিচিত কাউকে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্যাকেট বা পার্সেল দিয়ে থাকেন। আবেগের বশে আমরা না খুলেই সেগুলো লাগেজে ভরে নিই। এটি সবচেয়ে বড় বিপদের কারণ! ওই প্যাকেটের ভেতর যদি কোনো বেআইনি জিনিস (যেমন: ড্রাগস বা নিষিদ্ধ বীজ) থাকে, তবে এয়ারপোর্টে আপনি ধরা পড়বেন এবং শাস্তি আপনাকেই পেতে হবে। তাই দুবাই ভ্রমণের আগে এবং [এখানে আপনার ক্লাস্টারের ফোকাস কিওয়ার্ড দিন, যেমন: দুবাই ট্যুরিস্ট ভিসার নতুন নিয়মকানুন (Slug: /dubai-tourist-visa-rules)] সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পাশাপাশি নিজের লাগেজ নিজের হাতে গোছানো সবচেয়ে নিরাপদ।
২. প্রেসক্রিপশন ছাড়া সাধারণ ব্যথার বা ঘুমের ওষুধ সাথে নেওয়া (সবচেয়ে মারাত্মক!)
আমাদের দেশে মাথা ব্যথা বা ঘুমের জন্য ফার্মেসি থেকে যেকোনো ওষুধ কিনে ফেলা যায়। কিন্তু দুবাইয়ে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ! অনেক সাধারণ ওষুধ, যা আমাদের দেশে বৈধ, সেগুলো ইউএই-তে ড্রাগস হিসেবে গণ্য হয়। চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া কয়েক পিস সাধারণ ব্যথার ওষুধ সাথে থাকলেও আপনাকে জেলেও যেতে হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে কোন ওষুধগুলো নেওয়া যাবে আর কোনগুলো যাবে না, তা জানতে [এখানে আগামী ক্লাস্টারের কিওয়ার্ড দিন, যেমন: ইউএই ট্রাভেল গাইড ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস (Slug: /uae-travel-documents-guide)] অবশ্যই চেক করে নেবেন।
৩. ফেক হোটেল বুকিং বা পর্যাপ্ত ‘শো মানি’ (Show Money)
না রাখা অনেকেই শুধু ইমিগ্রেশন পার হওয়ার জন্য ভুয়া বা ক্যানসেল করা যায় এমন হোটেল বুকিং পেপার সাথে রাখেন এবং পর্যাপ্ত ডলার সাথে নেন না। দুবাই এয়ারপোর্টে এখন ইমিগ্রেশন অফিসাররা র্যান্ডমলি হোটেল বুকিং ভেরিফাই করেন। বুকিং ভুয়া প্রমাণিত হলে বা আপনার কাছে থাকা ডলার ওই দেশে থাকার জন্য পর্যাপ্ত মনে না হলে, কোনো কথা ছাড়াই আপনাকে ফিরতি ফ্লাইটে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
💡 BDNewsLife Travel Hack (দুবাই প্রো-টিপস): দুবাই এয়ারপোর্টে নেমে ইমিগ্রেশনের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে না চাইলে, আপনার পাসপোর্টে যদি স্মার্ট গেট (Smart Gate) রেজিস্ট্রেশন করা থাকে, তবে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই আপনি ইমিগ্রেশন পার হয়ে যেতে পারবেন! আর এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার আগেই একটি “Nol Card” কিনে নেবেন, যা দিয়ে দুবাইয়ের মেট্রো, বাস এবং ট্রামে খুব সস্তায় যাতায়াত করা যায়। এতে আপনার অনেক ট্যাক্সি ভাড়া বেঁচে যাবে!