আমাদের জীবনে বাবা-মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের শারীরিক ও মানসিক একটু বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। আমরা অনেকেই যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় তাদের এই ছোট ছোট চাহিদাগুলোর দিকে ঠিকমতো খেয়াল করতে পারি না।
খুব সাধারণ কিছু বিষয়ে প্রতিদিন একটু নজর রাখলে পরিবারের বয়স্ক বাবা-মাকে খুব সহজেই সুস্থ এবং মানসিকভাবে ভালো রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নিই এমন ৩টি সুন্দর অভ্যাসের কথা:
১. প্রতিদিনের পুষ্টিকর ও খাঁটি খাবারের ব্যবস্থা করা
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই তাদের জন্য সাধারণ খাবারের পাশাপাশি বিশেষ স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে নজর দেওয়া উচিত। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাদের জন্য একদম খাঁটি ও উচ্চমানের দুগ্ধজাতীয় খাবার নিশ্চিত করতে পারেন। এটি তাদের হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং দৈনন্দিন শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে দারুণ সাহায্য করে।
২. তাদের ছোটখাটো প্রয়োজন ও ওয়েলনেসের (Wellness) খেয়াল রাখা
বয়স্ক মানুষদের অনেক সময় ছোটখাটো কাজের জন্য অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। তাদের ঘরের টুকটাক জিনিস গুছিয়ে দেওয়া, নিয়মিত ওষুধের কথা মনে করিয়ে দেওয়া বা তাদের দৈনন্দিন ওয়েলনেসের দিকগুলো একটু নিজে থেকে খেয়াল রাখলে তারা অনেক বেশি আরামদায়ক ও নিরাপদ বোধ করেন। আপনার এই ছোট একটি সাহায্য তাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দেয়।
৩. প্রতিদিন অন্তত কিছুক্ষণ তাদের সাথে গল্প করা
বয়সকালে বাবা-মায়েরা অনেক বেশি একাকীত্ব বোধ করেন। সারাদিনের কাজের চাপ শেষে বাড়ি ফিরে অন্তত কিছুটা সময় তাদের পাশে বসে কাটান। তারা সারাদিন কী করলেন বা কেমন কাটালেন—সেসব গল্প মন দিয়ে শুনুন। আপনজনদের এই সামান্য সময়টুকু তাদের মানসিকভাবে চরম প্রশান্তি দেয় এবং তাদের মন সবসময় হাসিখুশি থাকে।
পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের ভালো রাখা মানে পুরো বাড়ির পরিবেশ সুন্দর ও শান্তিময় থাকা। একটু সচেতনতা আর ভালোবাসা দিয়ে তাদের এই সময়টা অনেক বেশি আনন্দময় করে তোলা সম্ভব।