একটা সময় ছিল যখন হাঁটু বা শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথা শুধু বয়স্কদের সমস্যা বলে মনে করা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে তরুণ থেকে শুরু করে মাঝবয়সীদের মধ্যেও এই সমস্যাটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। একটানা বসে কাজ করা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে অল্প বয়সেই হাড়ের সংযোগস্থলগুলো দুর্বল হতে শুরু করে।
ব্যথা শুরু হলেই আমরা অনেকেই দ্রুত পেইনকিলার বা ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফেলি, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির জন্য চরম ক্ষতিকর। অথচ প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় ছোট কিছু পরিবর্তন আনলে এই জয়েন্ট পেইন থেকে প্রাকৃতিকভাবেই সুস্থ থাকা সম্ভব। চলুন জেনে নিই এমন ৩টি কার্যকরী নিয়মের কথা:
১. শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
আমাদের পুরো শরীরের ওজন বহন করে আমাদের দুই হাঁটু এবং পায়ের জয়েন্টগুলো। শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং জয়েন্টের ভেতরের ‘কার্টিলেজ’ বা নরম হাড় দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে। তাই হাঁটু বা জয়েন্ট ভালো রাখতে হলে সবার আগে মিষ্টি ও চর্বিজাতীয় খাবার কমিয়ে শরীরের বাড়তি ওজন ঝরিয়ে ফেলা অত্যন্ত জরুরি।
২. নিয়মিত হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং
ব্যথা শুরু হলে অনেকেই ভয়ে নড়াচড়া বা হাঁটাচলা একদম কমিয়ে দেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি সবচেয়ে বড় ভুল! একটানা বসে বা শুয়ে থাকলে জয়েন্ট আরও শক্ত হয়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করার অভ্যাস করুন। এতে জয়েন্টের ভেতরে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং পেশিগুলো নমনীয় হয়, যা ব্যথা কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
৩. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার গ্রহণ
হাড় মজবুত রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার দিকে একটু নজর দিন। দুধ, ডিম, ছোট মাছ এবং সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। তবে শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন ডি সবচেয়ে বেশি দরকার। ভিটামিন ডি-এর সবচেয়ে বড় ও প্রাকৃতিক উৎস হলো সকালের রোদ। প্রতিদিন সকালে অন্তত ১০-১৫ মিনিট মিষ্টি রোদে হাঁটার অভ্যাস আপনার হাড়কে প্রাকৃতিকভাবেই মজবুত করে তুলবে।
পেইনকিলার খেয়ে হয়তো সাময়িক ব্যথা কমানো যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ব্যথামুক্ত ও সুস্থ জীবন পেতে হলে আজ থেকেই এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন।